ইস্তাম্বুল-সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এক নগরী।ইসলামী খিলাফতের রাজধানী।যাতে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা আর অপরূপ নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলী।এটি পৃথিবীর একমাত্র শহর যা দুই মহাদেশের অংশ। শহরটি ঠিক এমন এক স্থানে অবস্থিত যেখানে বসফরাস নামে একটি সরু প্রনালী, যা এশিয়া ও ইউরোপকে পৃথক করেছে। এস্থানটি পৃথিবীর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্য কেন্দ্র।কারণ ইউরোপ ও বলকান রাষ্ট্রগুলোর জাহাজ চলাচল করে বসফরাস প্রণালী দিয়ে।
এ ঐতিহাসিক শহরটি গড়ে উঠেছে মর্মর সাগর,
বসফরাস প্রণালী ও গোল্ডেন হর্ন নামক তিনটি জলরাশি বেষ্টিত একটি উপদ্বীপ। ইস্তাম্বুলের
এশীয় ভাগ এশিয়া মাইনর(Asia Minor) ও আনাতোলিয়া(Anatolia) নামে প্রসিদ্ধ আর ইউরোপীয়
অংশ থেরেস(Thrace) নামে পরিচিত।
প্রায় ১৬০০ বছর ধরে ইস্তাম্বুল ছিল রোমান,
বাইজেন্টাইন ও অটোমান(উসমানী)-এ তিনটি প্রতাপশালী সাম্রাজ্যের রাজধানী। এ সুদীর্ঘ
সময়ে একে শাসন করেছে ১২০ জন সম্রাট ও সুলতান। এমন গৌরবময় ইতিহাস পৃথিবীর আর কোন শহরের নেই।
প্রস্তর যুগ থেকেই এ এলাকায় জনবসতি ছিল।ইম্তাম্বুলের
গোড়াপত্তন নিয়ে বহু মতামত প্রচলিত আছে। সবচেয়ে বেশি প্রচলিত মতানুসারে, খ্রীষ্টপূর্ব
৬৫০ সালে মেগারা শহরের লোকেরা বাইজাসের নেতৃত্বে নতুন বাসস্থানের খোঁজে বের হয়।দীর্ঘ
দিন খোঁজার পর তারা এর সন্ধান পায়। তখন এ শহরটি
স্বাধীন দেশ হিসেবেই চলছিল। এর শাসন চলত তৎকালীন গ্রীক ধর্ম অনুসারে। ১৯১ খ্রীষ্টাব্দে
রোমানরা শহরটিকে অবরোধ করে। দুবছর অবরোধের পর রোমান সম্রাট সেপ্টিমাস সেভেরাস তা দখল
করে নেয়। পরবর্তিতে রোমান সম্রাট সেপ্টিমাস সেভেরাস শহরটিকে বৃহদাকারে সংষ্কারের কাজে
হাত দেন। নতুন দেয়াল নির্মাণের পাশাপাশি নতুন নতুন ভবনের দ্বারা সুসজ্জিত করা হয় ইস্তাম্বুলকে।
চতুর্থ শতকে সম্রাট কনস্ট্যানটাইন রোম থেকে
অন্যত্র রাজধানী সরানোর কথা ভাবেন। তিনি ইস্তাম্বুলকে নতুন রাজধানী হিসেবে নির্বাচন
করেন। সাথে সাথে তিনি আবার একে বর্ধনের কাজে হাত দেন নতুন করে সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ
করা হয়। আরও বানানো হয় নতুন নতুন অট্টালিকা।৩৩০ খ্রিষ্টাব্দে একে সরকারী ভাবে রাজধানী
হিসেবে ঘোষনা করা হয়।তখন তা দ্বিতীয় রোম বা নতুন রোম নামে পরিচিতি লাভ করে। তবে তা
কিছু দিনের জন্য। শীঘ্রই তার নাম হয়ে যায় বাইজান্টিয়াম । পরবর্তীতে অবশ্য আবার তা কনস্ট্যানটিপোলিস-এ
পরিবর্তিত হয়।(চলবে)
ব্লগে নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক লেখা চাই
উত্তরমুছুনব্লগে নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক তথ্যবহুল লেখা চাই
উত্তরমুছুন