(উত্তরটি প্রকাশিত হয়েছে শায়খ সালেহ আল মুনাজ্জিদ
এর ফতোয়া বিষয়ক ওয়েবসাইটে)
প্রশ্নঃ আমার একটি ওয়েবসাইট আছে যাতে ডাউনলোড করার জন্য অনেক
প্রোগ্রাম / সফটওয়্যার রাখা আছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমি তা থেকে সমস্ত ক্র্যাক ও সিরিয়াল
নম্বরগুলো সরিয়ে ফেলেছি (যেগুলোর দ্বারা কপি করা সফটওয়্যার সচল করে চালানো যায়)। কিন্তু
আমার একটি ফোরাম আছে যার সদস্যরা অনেক সময় ক্র্যাক ও সিরিয়াল নম্বর শেয়ার করে। এগুলোকে
খুঁজে খুঁজে ডিলিট করা একটি অত্যন্ত কষ্টকর ও ক্লান্তির কাজ। আমি যদি এসব ক্র্যাকগুলো
না সরাই তাহলে কি আমার গোনাহ হবে? “কোন ক্র্যাক বা সিরিয়াল নম্বর ফোরামে শেয়ার করা
যাবে না আর যদি কেউ শেয়ার করে তাহলে সে নিজে গোনাহগার হবে, আমরা গোনাহের দায় বহন করব
না। “ – ফোরামে এ মর্মে একটি নোটিশ দিয়ে
রাখলে কি আমি গোনাহ থেকে বাঁচতে পারব?
উত্তরঃ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
কোন ওয়েব পেজে ক্র্যাক
বা সিরিয়াল নম্বর শেয়ার করার বিধান, কোন প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যারকে কপি করার
বিধানের অনুরূপ। যদি কপি করা জায়েয হয় তাহলে ক্র্যাক বা সিরিয়াল নম্বর শেয়ার করাও
জায়েজ। আর যদি কপি করা জায়েয না হয় তাহলে ক্র্যাক বা সিরিয়াল নম্বর শেয়ার করাও
নাজায়েয।
কোন প্রোগ্রামকে কপি করার বিধানের সারমর্ম নিম্মরূপঃ
প্রথমতঃ
যদি সফটওয়্যার কোম্পানীর মালিকরা ঘোষনা করে দেয় যে এই
সফটওয়্যার কপিরাইটের অধীন আর কোন ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এগুলোর কপি করা
যাবেনা। তখন এক্ষেত্রে ইসলামী মূলনীতি হলো যে তাদের এই শর্ত মানতে হবে। কারন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ”মুসলিমরা তাদের ওয়াদার
ক্ষেত্রে আবদ্ধ। “( অর্থাৎ তারা তাদের চুক্তি মানতে বাধ্য।)
সুতরাং কোন বই, ট্যাপ, ডিস্ক ইত্যাদির ক্ষেত্রে লিখক,
আবিষ্কারক ও নির্মাতাদের অধিকার সংরক্ষিত থাকবে। আর তাদের অনুমতি ছাড়া এগুলো কপি
করা যাবেনা।
যারা এগুলো কপি করে নিঃসন্দেহে তাদের অর্থ, শ্রম ও সময় ইত্যাদি
কপি করার মাধ্যমে উৎপাদন করতে ব্যয় হচ্ছে। তাই বিনিয়োগ থেকে তাদের লভ্যাংশ গ্রহণ
করতে শরিয়ত বাধা দেয়না। কিন্তু তারা কপিরাইটের অধিকারীদের সাথে চুক্তিভঙ্গ করছে
এবং তাদের সম্পদ বেআইনী ভাবে ভক্ষন করছে। (তাই তারা গোনাহগার হবে)।
তাছাড়াও, যদি এসব ক্ষেত্রে স্বত্বাধিকার লঙ্ঘণের সুযোগ করে
দেয়া হয়, তাহলে নতুন বই প্রকাশ, নতুন জিনিস আবিষ্কারের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। কারন
লিখক, প্রকাশক ও কোম্পানী যথেষ্ট লাভবান হতে পারবেনা । এমনি কখনও কখনও তারা তাদের
কর্মচারীদের বেতনও দিতে পারবেনা। তাই আলেমগন স্বত্বাধিকার সংরক্ষনের পক্ষে ফতোয়া
প্রদান করেছেন এবং এর লংঘনকে হারাম বলে ঘোষনা করেছেন।
দ্বিতীয়তঃ
“যদি ব্যক্তিগত
ব্যবহারের জন্যও কপি করা যাবেনা” –
এ মর্মে কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকে তাহলে ব্যক্তিগত ভাবে ব্যবহারের জন্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে
কপি করা যাবে, লাভের উদ্দেশ্যে করা জায়েয হবেনা।
এ বিষয়ে শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আল উছাইমিন সতর্ক করে বলেনঃ
“এ বিষয়ে নৈতিকতা অবলম্বন করা উচিত। যদি কোন ব্যক্তি নিজের
জন্য কপি করে আর সর্বপ্রথম যে তা তৈরি করেছে তার এ বিষয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকে
তাহলে আশাকরি আমি এতে কোন সমস্যা নেই। আর যদি সর্বপ্রথম উৎপাদনকারী এ বিষয়ে নিষেধ
করে থাকেন তাহলে তা কোন ভাবেই কপি করা যাবে না । ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যই হোক বা
ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই হোক।”
তৃতীয়তঃ
উপরোক্ত যে বিধানের কথা আলোচনা করলাম তাহলো ইসলামে মূলনীতি যা
সাধারন অবস্থায় প্রযোজ্য। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্র আছে যখন স্বত্ত্বাধিকারীর অনুমতি
ছাড়াও সফটওয়্যার কপি করা যাবে। তা নিম্মরূপঃ
১. যদি কোন সফটওয়্যার বাজারে পাওয়া না যায় আর কোন ব্যক্তির তা
খুব বেশি প্রয়োজন পড়ে আর সে তা কপি করবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আর সে তা অন্যের কাছে বিক্রিও করবেনা অথবা কপি করার
দ্বার লাভবানও হবেনা।
২. যদি সফটওয়্যারটির প্রয়োজন খুব বেশি হয় আর স্বত্ত্বাধিকারী
খুব বেশি দাম দাবি করছে যা অযৌক্তিক আর তারা এ সফটওয়্যার বিক্রি করে যথেষ্ট লাভবান
হয়েছে। (আর এ লাভবান হওয়ার বিষয়টি সাধারনত বিশেষজ্ঞরাই অনুধাবন করতে পারে)। তাহলে
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কপি করতে পারে, তবে কোন অবস্থাতেই বিক্রির উদ্দেশ্যে তা
কপি না করা।
৩. এর মালিক যদি কোন এমন কাফের হয় যারা মুসলমানদের সাথে
যুদ্ধেরত তাহলে কপি করে ব্যবহার করা যাবে।
উপরোক্ত কথার উপর ভিত্তি করে এ কথা বলা যায় যে, যে সফটওয়্যার
কপি করা জায়েয নেই তা শেয়ার করাও জায়েয নেই। আর শুধু ফোরামে নোটিশ দিয়ে রাখা
যথেষ্ট নয়। কারন আপনি তা ডিলেট করতে
সক্ষম।
আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন।
(সামান্য সংক্ষেপিত
ও পরিবর্তিত)
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন