মুসলমানদের পাঁচটি বৈপ্লবিক আবিষ্কার যা বিশ্বকে বদলে দিয়েছে


 আমরা মুখে মুখে বলি মুসলমানরা অনেক কিছু আবিষ্কার করেছে কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয় “তারা কি কি আবিষ্কার করেছেন ? ’ তখন আমরা অনেকেই বলতে পারিনা আমাদের পূর্ব পুরুষদের কঠোর পরিশ্রমের কোন আবিষ্কারের কথা ।তাই আমি আজ খুব সংক্ষেপে আলোচনা করছি কয়েকটি এমন আবিষ্কারের কথা যেগুলো বিশ্বকে পাল্টে দিয়েছে।
 ১. কফিঃ সারা পৃথিবীতে প্রতিদিন কোটি কোটি কাপ কফি পান করা হচ্ছে।আমরা কি জানি কফি পান করার এ রীতি সর্বপ্রথম মুসলমানরাই চালু করেন।ইয়েমেনের মসিলমানদের মাঝে ১৪০০ খ্রীষ্টাব্দের দিকে খুব জনপ্রিয়তা লাভ করে।এ প্রসংগে একটি গল্প প্রচলিত আছে যে, মুসলিম রাখালরাই প্রথম লক্ষ্য করেন যে, বিশেষ এক ধরনের গাছের শিম আকৃতির ফল খাওয়ার পর পরই তাদের ছাগলগুলো খুব সতেজ হয়ে যায়। তারপর তারা এক সময় নিজেরা সে ফলের বীজ বিভিন্ন ভাবে খেতে শুরু করলেন। এক সময় এভাবেই পানীয় হিসেবে কফি খাওয়া শুরু হলো।

২.বীজগণিতঃ এটি মুসলমান গণিতবিদদের একটি প্রসিদ্ধ আবষ্কিার। আমরা অনেকেই এ তথ্যটি জানি। মুহাম্মদ বিন মূসা আল খাওয়ারিজামী (৭৮০-৮৫০) নামে এক মুসলিম গণিতবিদ ছিলেন। তিনি পারস্য ও ইরাকের অধিবাসী ছিলেন।তার বিখ্যাত বই ‘আল কিতাবুল মুখতাছার ফিল হিসাব আল জাবার ওয়াল মুকাবালাহ’ ( যার অর্থ পরিপূরক ও অনুপাতের বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব) এর মাঝে বহু গাণিতিক সমস্যা সমাধানের নিয়ম কানূন লিখেন।এগুলোই ছিল বীজগণিতের ভিত্তি। আর আল জাবার শব্দ থেকেই এলজাবরা (বীজগণিত) শব্দের উৎপত্তি।

৩. সনদ প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ঃ সম্ভবত সর্বপ্রথম নিয়মতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় মরক্কোতে ৮৫৯ খ্রীষ্ঠাব্দে। তারপর ৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। তারপর আস্তে আস্তে সারা মুসলিম জাহানের বিভিন্ন শহরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। এ সকল বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা সমাপনের পর ছাত্রদের সনদ দেয়া হতো। ইউরোপের ছাত্ররা আসত এসব বিদ্যাপিঠ থেকে বিদ্যার্জনের জন্য।ইটালীর বোলাগনা আর ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় আরও অনেক পরে একাদশ ও দ্বাদশ খ্রীষ্ঠাব্দে।

৪. দামামা ও রণসংগীতঃ আজ বিশ্বের প্রায় সব সভ্য সেনাবাহীনিতেই রয়েছে রণসঙগীত ও দামামার প্রচলন। যা তাদের ভিতরের সুপ্ত বীরত্ব, দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও উদ্যমকে জাগিয়ে তোলে । মুসলমানরাই সর্বপ্রথম রণসংগীত ও দামামার প্রচলন করেন। উসমানীয় বাহীনি ১৬৮৩ সালে অষ্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা অবরোধ করে। তারপর যখন তারা শহর দখল করতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে তখন অনেকগুলো দামামা ফেলে রেখে এসেছিল।এগুলো কুড়িয়ে নিয়ে অষ্ট্রীয় বাহীনি ব্যবহার করা শুরু করে। তারপর ক্রমান্বয়ে ইউরোপের অন্যান্য সেনাবাহীনিতেও এর প্রচলন শুরু হয়।

৫.ক্যামেরাঃ ক্যামেরা ছাড়া বর্তমান দুনিয়া কল্পনা করা যায়না। অথচ ক্যামেরার প্রাথমিক ধারনা মুসলমানরাই দিয়েছিল দুনিয়ার মানুষদের। ইবনুল হাইছাম নামে একাদশ শতাব্দীর এক মুসলিম বিজ্ঞানীই সর্বপ্রথম পিনহোল ক্যামেরার মূলনীতি আবিষ্কার করেন।







Share on Google Plus

About MIADAD

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন