স্মৃতিতে লংমার্চ - ৬ই এপ্রিল ২০১৩


স্মৃতিতে লংমার্চ - ৬ই এপ্রিল ২০১৩

আগে থেকেই জানতাম আওয়ামীলীগ সরকার কোন না কোন ঝামেলা করবেই করবে। আর শেষ পর্যন্ত তারা তাই করল।সারা দেশের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিল। মালিক সমিতি বাস ভাড়া দিতে অস্বীকার করল।শুক্রবার রওয়ানা হবার কথা থাকলেও তাই আচমকা বৃহস্পতিবার দুপুরে একরকম না খেয়ে রওয়ানা হলাম।মুক্তাগাছার এক ভাড়া বাসে। কারণ বৃহস্পতিবার তো বাস ভাড়া দিতে কোন নিষেধ নাই।প্রায় একশ জন লোক এশার ঠিক আগ মুহুর্তে পৌছলাম বারিধারা মাদ্রাসায়। নামায পড়ে খেতে বসলাম। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে মেহমানদারী- বিরানী।খাওয়ার পর দেখি চারদিকে মানুষ আর মানুষ ।মাদ্রাসার চত্বরে এলিয়ে দিলাম ক্লান্ত দেহটি। আমার অবস্থাতো এমন যে, বিশ কদম হাটলেই হাঁপিয়ে উঠি।একটানা দুটো সবক পড়ানো মুশকিল হয়ে যায়। তারপরও এ মহাসমাবেশে আসার লোভ সামলাতে পারিনি। হয়তো এ লংমার্চ জান্নাতে যাবার জন্য ওসীলা হতে পারে এ কথা ভেবে ।(কথাটি নাস্তিক ও তাদের দোসরদের গায় আগুন জ্বালাবে ভেবে খুশি লাগছে।)আমরা যারা উস্তাদ ছিলাম তাদের জন্য ইফতা বিভাগের ছাত্ররা নিজেদের কামরা-বিছানা ছেড়ে দিল । চার-পাঁচটা কয়েল জ্বালানোর পরও ‘ঢাকাইয়া’ মশার কামড়ে খুব একটা ঘুম হলোনা ।বাদ ফজর ঘুমানোর নির্দেশ দেয়া হয় । প্রথমে বেশ কিছুক্ষণ জায়গার অভাবে ঘুমাতে পারলাম না । শেষতক মাদ্রাসার কুতুবখানায় ঘুমানোর জায়গা পেলাম এক উস্তাদের বদান্যতায় ।আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম বদলা দান করুন।এভাবেই কেটে গেল শুক্রবার দিনটি ।
অবশ্য সারা দিন মোবাইলে কথা বলতে হলো পরিচিত জনদের সাথে । মেটালাম তাদের কৌতুহল, শুনলাম তাদের আক্ষেপ আর দুরবস্থার কাহিনী।ইমাম সাহেবদের আক্ষেপ মসজিদে জুমা না পড়িয়ে রওয়ানা হতে পারছেন না বলে।আর যারা সরকারের চক্রান্তে আটকা পড়েছিল তাদের কাছে বার বার নিজের তাগিদে ফোন করলাম স্বান্তনা দেয়ার জন্য। আমার স্ত্রীর বড় ভাই প্রায় ২৪ ঘন্টা সময় দাড়িয়ে ছিল গফরগাঁও ষ্টেশনে।(আল্লাহর গজব পড়ুক মিথ্যা বাদী নাস্তিকদের আর তাদের দালারদের উপর।)আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ শায়খুল হাদীছ ফজলুর রহমান সাহেবকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। তারপর প্রাইভেটকার ভাড়া করেন, সেক্ষেত্রেও বাধাপ্রাপ্ত হন। অবশেষে ট্রেনে উঠেন।সাতখামাইর যাবার পর সেটার যাত্রাও বাতিল করা হয়, নাশকতার আশংকায় (আচ্ছা এ নাশকতাটা করত কারা? ঐ মুরগী শাহরিয়ারের দল? নাকি রাজাকারের নাতি ইমরানের ব্লগার বাহীনি?)। সেখান থেকে রাতের বেলা পায়ে হেটে, রিক্সায় চড়ে বহু বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে তিনি মতিঝিলে পৌছেন ।কত টাকা হুজুরের খরচ হয়েছে কে জানে ?
 টাকার কথা যখন উঠল তখন বলে রাখি- আমার মাসিক আয়ের প্রায় এক চতুর্তাংশ ২০০০ টাকা নিয়ে আমি যাত্রা করেছিলাম।কতক নাস্তিকের দল বলাবলি করছে এ লংমার্চ নাকি জামাতের টাকায় হয়েছে।শয়তানের চ্যালাদের তখন কি করতে মন চায় ?কারন আমার এ মাসে আমার নিজের হাত খরচ, মেহমানদারীর খরচ, আমার স্ত্রীর ঔষধ কেনার টাকা যোগাতে হিমশিম খেতে হবে।ভেবে ছিলাম আমি নিজেও ডাক্তার দেখাবো।কিন্তু তাতো এখন কল্পনাও পারছিনা।তারাতো এক রাত শাহবাগে কাটিয়ে ৫০০/১০০০ টাকা পেতো। তাই ভাবছে নিঃস্বার্থ ভাবে কেউ কি কোন সমাবেশে যায় । হারামখোরের দল!
শুক্রবার রাতে স্ত্রীর কাছ থেকে আসা একটি মেসেজ পড়ে চোখ ভিজে যেতে চাইল ।কারন তাতে সে তার স্বামীর কাছ থেকে শেষ বিদায় চেয়েছিল। মা তার একমাত্র ছেলে জন্য টেনশন করবে এটাই স্বাভাবিক। তাই আমার সহজ সরল মাকে কিছুই বলে যাইনি।কি দরকার অযথা টেনশনে ফেলার। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন টেনশনের কি আছে? তাদের বলছি, যখন মায়ের কাছ থেকে আসছিলাম তখন শেষ বারের মত তাকে দেখে এসেছিলাম।আদরের একমাত্র ছোট বোনের আবদার (একটি লেখার প্যাড) পুরো করে এসেছিলাম। কারণ আমার ইচ্ছে ছিল একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে হলেও লংমার্চে যোগদান করব । তার জন্যে প্রয়োজনে বুকের রক্ত ঝড়াবো।পকেটের টাকা সব জলে ফেলব।ছাত্রদের কাছ থেকেও মাফ চেয়ে বিদায় নিয়ে ছিলাম বৃহস্পতিবার দরসে। শুক্রবার রাতে নির্ঘুম কেটেছে আমার । আল্লাহর কাছে বার বার দোয়া করেছি যাতে আল্লামা আহমদ শফী অপমানিত না হন।কারন ভয় ছিল লোক সমাগম কম হওয়ার।গন জাগরণ মঞ্চের ডালকুত্তাদের সাথে সংঘাতের।আরও কত কি ?(continued)
Share on Google Plus

About MIADAD

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন